গায়েব হলো অদৃশ্য অর্থ হলো অদৃশ্য বিষয়ে জানা কে গায়েব বলে।
গায়েব নিয়ে মানুষ অনেক কিছু বলে,
কেউ কেউ বলে নবীজি গায়েব জানতেন।
আসলে কী নবীজি গায়েব জানতেন?
উত্তরঃ- না, নবীজিকে আল্লাহ তায়ালা জিবরাঈল (আঃ) এর মাধ্যমে গায়েব জানাতেন,
তাহলে কি নবীজি গায়েব জানতেন?
না নবীজি গায়েব জানতেন না, গায়েব জানা আর জানানো এক নয়। আল্লাহ কোরআনে বলেনঃ–সূরাঃ আন-নমল [27:65]

বলুন, আল্লাহ ব্যতীত নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে কেউ গায়বের খবর জানে না এবং তারা জানে না যে, তারা কখন পুনরুজ্জীবিত হবে।

এতে বুঝা যায় আল্লাহ ছাড়া আর কেউ গায়েব জানতেন না।
গায়েবের মালিক একমাত্র আল্লাহ তায়ালা আল্লাহ কোরআনে বলেছেনঃ-সূরাঃ আল-আনাম [6:59]

তাঁর কাছেই অদৃশ্য জগতের চাবি রয়েছে। এ গুলো তিনি ব্যতীত কেউ জানে না। স্থলে ও জলে যা আছে, তিনিই জানেন। কোন পাতা ঝরে না; কিন্তু তিনি তা জানেন। কোন শস্য কণা মৃত্তিকার অন্ধকার অংশে পতিত হয় না এবং কোন আর্দ্র ও শুস্ক দ্রব্য পতিত হয় না; কিন্তু তা সব প্রকাশ্য গ্রন্থে রয়েছে।
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন শিরক গোনাহ ছাড়া আল্লাহ সব গোনাহ মাপ করবেন কিন্তু শিরকের গোনাহ মাপ করবেন না,
আল্লাহ কোরআনে বলেছেনঃ-সূরাঃ নিসা [4:48]
নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে লোক তাঁর সাথে শরীক করে। তিনি ক্ষমা করেন এর নিম্ন পর্যায়ের পাপ, যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন। আর যে লোক অংশীদার সাব্যস্ত করল আল্লাহর সাথে, সে যেন অপবাদ আরোপ করল।

সূরাঃ আল-ইখলাস [112:4]
এবং তার সমতুল্য কেউ নেই।

আমাদের বিশ্বাস হতে হবে যে গায়েব একমাত্র আল্লাহ তায়ালা জানেন,আল্লাহ নবীজিকে যা জানাতেন নবীজি শুধু তা জানতেন এর বেশি না।

সূরাঃ আল-আনাম [6:50]

আপনি বলুনঃ আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ভান্ডার রয়েছে। তাছাড়া আমি অদৃশ্য বিষয় অবগতও নই। আমি এমন বলি না যে, আমি ফেরেশতা। আমি তো শুধু ঐ ওহীর অনুসরণ করি, যা আমার কাছে আসে। আপনি বলে দিনঃ অন্ধ ও চক্ষুমান কি সমান হতে পারে? তোমরা কি চিন্তা কর না?

এতে একেবারে স্পষ্ট যে নবীজি গায়েব জানতেন না–আল্লাহ যা জানাইতেন শুধু তা জানতেন।
অনেক বলে নবীজি কিয়ামত কখন হবে সেটা জানতেন এটা সম্পন্ন মিথ্যা কথা!
আল্লাহ বলেনঃ-সূরাঃ আল-মুলক [67:24-26]
বলুন, তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে বিস্তৃত করেছেন এবং তাঁরই কাছে তোমরা সমবেত হবে।
কাফেররা বলেঃ এই প্রতিশ্রুতি কবে হবে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও?
বলুন, এর জ্ঞান আল্লাহ তা’আলার কাছেই আছে। আমি তো কেবল প্রকাশ্য সতর্ককারী।

এতেও বুঝা যায় কিয়ামত সম্পর্কে একমাত্র আল্লাহ তায়ালা জানেন।
অনেকে বলে নবীজি নিজের কল্যাণ-অকল্যাণ সম্পর্কে জানতেন এটা সম্পন্ন মিথ্যা কথা!
সূরাঃ-আল-আরাফ=আয়াত–১৮৮
আপনি বলে দিন, আমি আমার নিজের কল্যাণ সাধনের এবং অকল্যাণ সাধনের মালিক নই, কিন্তু যা আল্লাহ চান। আর আমি যদি গায়বের কথা জেনে নিতে পারতাম, তাহলে বহু মঙ্গল অর্জন করে নিতে পারতাম, ফলে আমার কোন অমঙ্গল কখনও হতে পারত না। আমি তো শুধুমাত্র একজন ভীতি প্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা ঈমানদারদের জন্য।

আবার অনেকে মনে করে নবীজি মরে নাই!
সূরাঃ আয-যুমার [39:30]
নিশ্চয় তোমারও মৃত্যু হবে এবং তাদেরও মৃত্যু হবে।
এতে বুঝা যায় নবীজিও মরা গেছে।

আমরা মিরাজের ঘটনা থেকে একটা জিনিস জানতে পারি সেটা হলোঃ- অনন্য নবীরা আসমানে থাকেন সেখান থেকে বলা যায় নবীজিও আসমানে আছে সেটা আল্লাহ ভালো জানেন।

আবার অনেক মনে করে নবীজি পৃথিবীতে কি হয় সব কিছু দেখে নাউজুবিল্লাহ চলুন আমরা একটা হাদিস পড়িঃIRD
আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু মাস’ঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমি হাউজে কাউসারের নিকট তোমাদের আগেই হাজির থাকব। তোমাদের থেকে কিছু লোককে আমার নিকট পেশ করা হবে। কিন্তু আমি যখন তাদের পান করাতে উদ্যত হব, তখন তাদেরকে আমার নিকট হতে ছিনিয়ে নেয়া হবে। আমি বলব, হে রব! এরা তো আমার সাথী। তখন তিনি বলবেন, আপনার পর তারা নতুন কী ঘটিয়েছে তা আপনি জানেন না।
(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৭৩)
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৭০৪৯
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
Source: আল হাদিস অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ, IRD

এতে বুঝা যায় নবীজি পৃথিবীতে কি হয় সেটা যানেন না।
মনে রাখবেন নবীজি আল্লাহর গোলাম!
সূরাঃ আল-ইখলাসঃ-
১ঃ-বলুন, তিনি আল্লাহ, এক,
২ঃ-আল্লাহ অমুখাপেক্ষী,
৩ঃ-তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি
৪ঃ-এবং তার সমতুল্য কেউ নেই।
আল্লাহ সাথে শরিক করলে তাওবা না করে মারা গেলে জাহান্নামে যাবেন।

সবশেষে একটা কথা বলি না যেনে গোনাহ করলে হইতো আল্লাহ মাপ করবেন কিন্তু জেনে শুনে মাপ করলে সেটা কি মাপ করবেন।

আসুন আমরা নবীজি কে অনুসরণ করি কোরআন-হাদীস মেনে চলি।
আল্লাহ আমাদের সবাই কে হেদায়েত দান করুক আমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *